Archive for January 4, 2011

অনিন্দিতা

মাথার ভেতর অনিন্দিতা ঘুরছে। কেন ঘুরছে জানি না। এই নামে কাউকে আমি চিনি না। প্রথমে ভেবেছি অনেক আগে চিনতাম এমন কেউ। আমি এসেছি শহরের শেষ প্রান্তের এক অনগ্রসরমান ইউনিয়ন থেকে। সেখানে মানুষের নাম এমন হয় না। শিউলি, হেনা, মিতু, শিমুল কিমবা কলি, মুনিয়া, সেফালি, বকুল। অনিন্দিতার মত আধুনিক নাম সেখানে রাখা হয়না। অনিন্দিতাকে মাথা থেকে নামানো যাচ্ছে না। মাথা থেকে গল্প নামানো যায়। গল্পের সাথে অনিন্দিতাকেও নামানো যায়। এই ভাবনা থেকেই গল্পটা লিখা। অনিন্দিতা।

নখের আগা থেকে টকটকে লাল নেইল পলিশের খানিকটা উঠে গেছে। বা হাতের তর্জনীর দিকে বার বার নজর যাচ্ছে। মনে হচ্ছে রং উঠা জায়গাটা তার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। এমন না যে খুব বাজে দেখাচ্ছে। খুব কাছ থেকে ভালো করে খেয়াল না করলে হয়তো বোঝাও যাবে না। তবে ব্যাপারটা ভালো বিরক্ত করছে। মনের ভেতর খচখচ করছে। অনিন্দিতা কাজে মনোযোগ দিতে পারছে না। যদিও তার কাজে মন দেয়া প্রয়োজন। ব্যাংকের ফাইনান্স ডিপার্টমেন্টের কাজে ভুল করা চলে না। তার উপর সামনে জুন মাস। প্রতিদিন কাজের পাহাড় জমছে।

দ্রুত একবার ঘড়ি দেখে নিলো অনিন্দিতা। এখন ২ টা ২০। বাসায় গিয়ে নেইল পলিশ ঠিক করে আসতে অনেক সময় লাগবে। আচ্ছা আশেপাশে কি কোথাও পার্লার আছে? থাকলে ভালো হতো। আধ ঘণ্টার জন্য বের হয়ে নেইল পলিশটা ঠিক করে আসা যেত। থাকলেও অনিন্দিতা জানে না। সে একটা পার্লারই চেনে। সেটা ধানমণ্ডিতে। আগে যখন ধানমণ্ডি থাকতো তখন ওখানে যেত। এখন তারা বারিধারা থাকে। তবুও অনিন্দিতা ধানমণ্ডির পার্লারেই যায়। নতুন কোথাও যেতে তার ভালো লাগে না। কিছু বদলাতেও না।

বিকাল সাড়ে ৫ টায় অর্ণব আসবে। তার আগেই সব কাজ শেষ করতে হবে। এমন না যে অর্ণব অপেক্ষা করতে পারবে না। ওর অফিসে এসে অপেক্ষা করতে অর্ণবের খারাপ লাগে না। তার ডেস্কের পাশের সোফায় খুশি খুশি চেহারা নিয়ে বসে থাকবে। একটু পরপর ঠাণ্ডা কোক খাবে। মাঝে মাঝে কথা বলার চেষ্টা করবে। এটা ওটা জিজ্ঞেস করবে। উত্তর না দিলেও বিরক্ত হবে না। বিরক্ত হবার ক্ষমতা নিয়ে অর্ণব জন্মায়নি।

জোর করে আবার কাজে মন দেয়ার চেষ্টা করলো। ডিপোজিটের রিপোর্টটা আবার শুরু থেকে দেখা শুরু করলো। কেন যেন মনে হচ্ছে একটা গোলমাল আছে। তার সিক্সথ সেন্স ভালো। এমনি এমনি গোলমাল মনে হবার কথা না। হয়তো আসলেই আছে। বড় গোলমাল হয় ছোট খাটো জায়গায়। যেখানে সবার নজর এড়াবার সম্ভাবনা থাকে।

মনে হচ্ছে গোলমালটা খুব জলদি ধরা পরবে। অনেকক্ষণ চেষ্টা করে কিছু করতে পারার পর একটা স্বস্তিদায়ক অনুভূতি হয়। অনিন্দিতার হচ্ছে না। অবচেতন মন বারবার বলে যাচ্ছে। নেইল পলিশ, লাল, লাল, লাল………



অনিন্দিতা, উপন্যাস , , No comments