Archive for March 31, 2012

Therap Team Building 2012

কয়েক বছর আগে Therap-এর রিক্রুটমেন্ট এমন ছিলনা। দুই-একজন অথবা তিন-চার জনের গ্রুপ এক সাথে জয়েন করত। এর বেশি না। জয়েন করার পর একটা অফিসিয়াল নিক নেম দেওয়া হত। ওই নামে একটা ইমেইল একাউন্ট হত আর স্পার্কে লগইন করতে হত। সবাই বুঝত নতুন কেউ এসেছে। আমি জয়েন করার মাস খানেক পর স্পার্কে নতুন একজন লগইন করল। মোটামুটি আকর্ষণীয় নাম, Suzan । দুই দিন পর বুঝলাম, It was not she, it was he। খুবই সাধারণ বাংলা নাম সুজন। অফিসে মানুষজন কম ছিল। অল্প কয় দিনেই সবাই সবাইকে চিনে যেত।

Therap-এর এখন আর সেই দিন নাই। অফিস বড় হয়েছে। Developer, tester, dba, design, unix, TNI আর অফিস স্টাফ মিলিয়ে প্রায় ১০০ জন। ছোট্ট এই শহরে ২ কোটি মানুষ থাকে। এই ৩ তালা বাড়িতে ১০০ লোক অফিস করতেই পারে। এক সাথে এত মানুষ জয়েন করে যে, সবাই সবাইকে চিনতে চিনতেই ২/৪ জন চাকরি ছেড়েও দেয়। বড় অফিসের আরেকটা লক্ষণ হল এক নামের কয়েকজন মানুষ থাকা। এখন অফিসে নাহার নামে কাউকে খুঁজলে আপনাকে বলতে হবে কোন নাহার কে খুঁজছেন। নরুন নাহার, লুৎফুন নাহার না রফিকুন নাহার।

আমাদের অফিসে একটা ইয়ারলি ট্যুর হয়। যদিও প্রতি বছর হয় না তারপরও নাম ইয়ারলি ট্যুর। অফিসিয়ালি অবশ্য ট্যুরটাকে বলা হয় টিম বিল্ডিং। সব টিমের সবাই এক সাথে থাকবে, কথাবার্তা বলবে, ঘোরাঘুরি করবে। টিম বিল্ডিং হবে। এই দেশে বেড়ানোর মৌসুম একটাই, শীতকাল। কোন এক অদ্ভুত কারণে আমাদের সব ট্যুরগুলো হয় গরমের দিনে। মার্চ, এপ্রিল বা জুনের কাঠ ফাটা গরমে, ঘামে ভিজে, রোদে পুরে আমরা ঘুরে বেড়াই। শ্রী-মঙ্গল, বান্দরবন, কক্সবাজার, সেন্ট মারটিন।

অফিসে নিজের কাজের গণ্ডীর বাইরে কেউ কাউকে তেমন চেনে না। বিশেষ করে নতুন যারা জয়েন করে। সবার নাম স্পার্কে থাকে। উইকলি মিটিং-এ সবার চেহারা দেখা হয়। কিন্তু কার নাম কোনটা আমি নিজেও জানি না। প্রতি ট্যুরের শেষের রাতে ছোট খাটো একটা কালচারাল ইভেন্ট হয়। খুব আয়োজন করে কিছু না। হুট-হাট করেই সব করা হয়। আগের ট্যুর আর এই ট্যুরের মাঝে যারা জয়েন করেছে। তাদেরকে কিছু একটা করতে বলা হয়। কেউ চাইলে গাইতে পারে, নাচতে পারে, কবিতা আবৃতি পারে অথবা সবার সামনে দাড়িয়ে খানিকক্ষণ কথা বলতে পারে।

এবারকার ইভেন্টটা হুট-হাট করে হয়নি, খানিকটা আয়োজন করেই হয়েছে। নতুন ছেলেমেয়েগুলো সপ্তা খানেকের মধ্যে খুব সুন্দর একটা ইভেন্ট দাড় করিয়ে ফেলেছে। প্রায় ১৮ ঘণ্টার ক্লান্তিকর ভ্রমণ শেষে, রাতে না ঘুমিয়ে হোটেলের ছাদে রিহারসেল করেছে। বাংলাদেশ পাকিস্তানের শ্বাসরুদ্ধর খেলা দেখা বাদ দিয়ে বার কয়েক প্রাকটিস করেছে। পরিশ্রম বৃথা যায়নি। এরচেয়ে ভালো ইভেন্ট যে এর আগে হয়নি, তা নিয়ে কারো কোন দ্বিমত নেই।



Uncategorized , , 2 comments

ওজন সমীকরণ

ওজন নিয়ে গত তিন বছর ধরে ভালো ঝামেলায় আছি। ২ বার কমেছে আর ৩ বার বেড়েছে। পিঠের ব্যথা শুরু হবার পর থেকে সকালের ১ ঘণ্টার জগিং বন্ধ কিন্তু খাওয়া কমানো হয়নি। একটানে বেলুনের মত ফুলে গেছি। কমানোর জন্য আর দৌড়ানো সম্ভব না তাই সাতার শুরু করলাম। ওজন আবার কমে গেল। শীতে ঠাণ্ডা পানিতে সাঁতার কাটার মত অমানুষ এখনো হতে পারিনি। শীতে দাওয়াতের ধুম পড়ে, হাটা আর সাঁতার দুটোই বন্ধ থাকে, সাথে ওজন বারতে থাকে। গরম আসতে আসতে আবার আগের মত হয়ে যাই। সমস্যা হচ্ছে Back Pain-এর জন্য ওজন বেশি থাকা মোটেও ভালো কিছু না। ডিস্কে চাপ পড়ে। সুতরাং আবার ওজন কমাতে হবে।

প্রথমবার ওজন কমানোটা মোটামুটি সহজই ছিল। কোন প্লান প্রোগ্রাম ছিলনা। অনেকটা হুট করেই কমানো শুরু করেছিলাম। জানুয়ারির তিরিশ তারিখ, সাল ২০০৬। দুপুরে Bamboo Shoot-এ সিদফারের জন্মদিনের buffet খেয়ে আড্ডা দিতে সবাই গেলাম পরিবাগ, মুমুর বাসায়। রাতে আমি আর হাসিব ফেরার সময় গল্প করছিলাম খাওয়া নিয়ে। হাসিবের কথা: ভাত বাদ দেওয়া বেশ কঠিন। আমার ধারনা উল্টো। খুব একটা কঠিন না। কথায় কথায় ঠিক করলাম, আচ্ছা ঠিক আছে খাবনা ভাত, দেখি কেমন লাগে। ভাত খাওয়া ছেড়ে দিলাম। সপ্তা খানেক পর চিন্তা করলাম। রুটি, বিস্কুট আর অন্য শর্করা খাবারইবা দরকার কি? ওই গুলাও বাদ। ফলাফল চমকার। মাত্র ৩ মাসে ১৫ কিলো ওজন কমে গেল। আমি নিজেও বিস্মিত। শরীরও কম যায় না। শরীরের প্রতিক্রিয়াও চমৎকার। গায়ের চামড়া কুঁচকে গেল। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিল। মাথার চুলও আধা সাফ হয়ে গেল। নিজের চেহারা দেখে নিজেরই বিশ্বাস হয়না, এটা আমি।

ওজন বাড়ানো/কমানো এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। কিন্তু ঠিক কতটুকু হাঁটাহাঁটি আর সাঁতারে, কতদিনে কতটুকু কমে সেটা জানি না। একেক মানুষের ক্ষেত্রে সমীকরণটা একেক রকম। চিন্তা করছি এবার বেপারটা বের করব। একবারে ওজন সমীকরণ বানাব, খাঁটি গবেষণার মত । এবারের লক্ষ ৪ মাসে ১০ কেজি ওজন কমানো। যেহেতু ওজন কমা শুরু হতে একটু সময় নেয়, তাই প্রথম ২ মাসের লক্ষ্যমাত্রা ৪ কেজি। পরের ২ মাসে বাকি ৬ কেজি। সাধারণত ৩৫০০ ক্যালরি = ১ পাউন্ড ধরা হয়। সেই হিসাবে সপ্তা প্রতি আমার পোড়াতে হবে পুরো ৩৫০০ ক্যালরি। একটা এক্সেল বানিয়ে হিসাব রাখছি। প্রতিদিন এন্ট্রি দিচ্ছি। দেখা যাক ফলাফল কি দারায়।

Date Calory Burned Weight Morning Weight Night Walk (km) Swim (m)
20120305 585.2 80 6.4 500
20120306 557.6 79.5 80 8.2
20120307 630.2 79.8 80 6.4 650
20120308 748 80 11
20120309 136 80 2
20120310 0 79
20120311 435.2 79.8 80 6.4
20120312 536.4 80 4.8 700
20120313 340 80 5
20120314 554 80 5.5 600
20120315 217.6 80 3.2
20120316 374 79.9 5.5
20120317 510 79.8 7.5
20120318 340 79.5 80 5
20120319 834.2 79 9.4 650
Total 6798.4

২ সপ্তা পার হয়ে গেছে। এখনো ৭০০০ ক্যালরি পোড়ান যায়নি। পরের ২ সপ্তা আরও বেশী হাটা লাগবে :(



ওজন , 2 comments