Archive for December 29, 2012

অল্প স্বল্প ভয়ের গল্প

গরমের দিনে ছাদে কাপড় শুকাতে দুই ঘণ্টার বেশি লাগে না। বর্ষায় প্রায় পুরো দিন। আর শীতকালে কুয়াশা থাকলে দিন গিয়ে রাত হয়, কাপড় শুকায় না। সন্ধ্যার পর ছাদে কাপড় রাখার মানে হয় না। কুয়াশায় আবার ভিজে যায়। বিকালের মধ্যেই কাপড় ঘড়ে নিয়ে আসতে হয়। আজকে বিকেলে বাইরে ছিলাম। ঘরে ফিরতে ফিরতে প্রায় সোয়া ছয়টা বেজেছে। শীতকালের হিসাবে পুরোপুরি রাত। পুরো ছাদ অন্ধকার। সেই সাথে সুনসান।

ছাদে উঠে কাপড়ের ক্লিপ খুলে তার থেকে কাপড় নিচ্ছি। হঠাৎ ধুপ করে পেছনে কিছু একটা পরার শব্দ হল। পিছনে ফিরে দেখতে দেখতে গায়েব। কিছু একটা বাম দিকে দিয়ে ছাদের অন্ধকারে গায়েব হয়ে গেল। ক্ষিপ্র গতি ছাড়া আর কিছুই বুঝলাম না। অবয়বটাও পরিষ্কার না। ছাদের বাম দিকের বাতি জ্বালিয়েও কিছুই পাওয়া গেল না। মনের ভুল হবার কথা না। বেশ ভালো করেই শুনেছি শব্দটা। কিছু একটা উপর থেকে ঠিক আমার পেছনে পড়েছে। অথচ কি বা কেন বুঝা যাচ্ছে না।

মানুষ হিসাবে আমি খুব একটা সাহসী না (আসলে মোটেও না :( )। ভয়ে ভয়ে ডানে বায়ে তাকাচ্ছি। দুটো চাদর শুকাতে দিয়েছিলাম। একটা নিয়েছি। আরেকটা নিব নাকি এখনি বাসায় চলে যাব বুঝতে পারছি না। আবার আরেকটা শব্দ শুনলাম, এবার মাথার উপর। ভয়ে ভয়ে উপরে তাকালাম। যে দৃশ্য দেখলাম তা মোটেও সুখকর না। মাত্র চার-পাঁচ ফুট উপরে ছাদের চিলেকোঠার উপর তিনটা বানর বসে আছে। ছোট খাটো বানর না। মোটামুটি ধারি বান্দর।

এদের নড়াচড়ার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। লাফিয়ে পরবে নাতো? শুনেছি মেজাজ খারাপ থাকলে নাকি মাঝে মাঝে কামড়ে খামচে দেয়। নরতেও সাহস পাচ্ছি না। যদি ভয় পেয়ে লাফ দেয়। এর মধ্যে আরেক পিস এসে যোগ হয়ে গেছে বাম দিক থেকে। খুব সম্ভবত এটাই আমার পিছনে পড়েছিল। এখন আবার উঠে ওখানে গেছে। মোট চারটা। নাহ! ছাদের ডান কোনায় দেখি একটু ছোট খাটো আরেকটা ভেংচি কাটছে।

কিছুক্ষণ পর জনাবেরা একটু সদয় হলেন। দল বেঁধে ছাদের অন্য পাশে চলে গেলেন। আমিও সাহস করে আরেকটা চাদর নিয়ে সোজা নেমে গেলাম। আসার পর মনে পড়লো জুতাও রোদে দিয়েছিলাম। থাক ওটা আকরাম ভাই (কেয়ারটেকার) আনবে। অত সাহস করে আবার ছাদে যাওয়ার দরকার কি?



গল্প , No comments