অনিন্দিতা ৭

SPZ-র পাশে ছোট খাটো একটা জটলা। কেউ টুলে বসে কেউবা দাড়িয়ে। হাসান ভাই মাঝে দাড়িয়ে কথা বলে যাচ্ছে। স্পোর্টস জ্যাকেটটা দুই হাতের কনুই আর কব্জির মাঝামাঝি তক গুটানো। ডান হাতে চায়ের কাপ আর বা হাতে আধ খাওয়া সিগারেট। মাঝে সাঝে সিগারেটে টান দিচ্ছেন অথবা চায়ে চুমুক দিচ্ছেন। যদিও চা বা সিগারেটের কোনটাতেই এই মুহুর্তে ওনার খুব একটা আগ্রহ নেই। ওনার সমস্ত মনোযোগ গল্পে। সবাই বেশ আগ্রহ নিয়ে শুনছে আর একটু পরপর হেসে উঠছে।

হাসান ভাই চমৎকার গল্প করতে পারেন। নিতান্ত সাধারণ ব্যাপারও উনি এমন অসাধারণ ভাবে বলবেন যে, শুনে মনে হবে সিরাম। যেকোনো আসর মাতিয়ে ফেলবার জন্য এই লোকের জুরি নেই। গল্প করার সময় উনি গলার সুর আর চেহারার এক্সপ্রেশনের জটিল ব্যাবহার দেখান। তবে সবচেয়ে ভালো করেন খাবার দাবারের গল্প। ওনার কাছ থেকে কোনো খাবারের বর্ণনা শোনার সময় আপনি ওই খাবারের গন্ধও টের পাবেন। মাঝে মাঝে স্বাদও টের পেয়ে যেতে পারেন।

সেই দিন আমার ছোট মামার বাসায় হালিম খাইলাম। বাটিতে হালিম নিয়ে মুখে দেয়ার আগে চামচ নাড়ায় দেখি হালিমে মাংস নাই। আমি চিন্তা করতেসি এই হালিম কি খাবো? মাংস ছাড়া আবার হালিম হয় নাকি! সবার সমানে তো আর রেখে দেয়া যায় না। এক চামচ মুখে দিলাম। কি যে বানাইসে, মানে কি বলবো! মাংসটা আসলে হালিমে মিশে গেসে বুঝলা। মুখের ভেতর মাংসের আশগুলা টের পাচ্ছি। আর স্বাদ নিয়ে আর নাইবা বললাম।

অর্ণব বলল ভাই থামেন আর বলতে হবে না। আপনার গল্প শুনে আমার এখনি খিদা লাইগা গেসে। ভাবসিলাম একটু পর ডিনারে যাব। এখন মনে হচ্ছে এখনি যাইতে হবে। অর্ণব আর অনিন্দিতার আজকে একসাথে ডিনারের প্ল্যান। আগে আগে অফিস থেকে বেড়িয়ে গেছে। এত আগে কেউ ডিনারে যায় না, তাই দুজন SPZ-র সামনে চলে এসেছে। এসে ভালোই হয়েছে। অনেকদিন পর সবাই মিলে আবার SPZ-র সামনে কঠিন আড্ডা হচ্ছে। অর্ণব, অনিন্দিতা, হাসান ভাই থেকে শুরু করে হামিদ সবাই কি করে যেন বেশ তাড়াতাড়ি চলে এসেছে।

গরমের দিনের এটা একটা সবচেয়ে বড় সুবিধা। কোনো মতে ৫টা, সাড়ে ৫টার মধ্যে অফিস থেকে বের হতে পারলে সন্ধার আগ পর্যন্ত ভালো সময় থাকে। শীতের দিনে এই সুবিধা থাকে না। শীতের বিকেলটা সুবিধার না। কেমন যেন ধরা যায় না। আসতে না আসতেই গায়েব। মনে হয় দুপুর পেরিয়েই সন্ধা নামে। বাচ্চাদের বিকেলে খেলার সময় থাকে না। বাড়ির ছাদে হইরই করে ঘুড়ি উড়ানো হয় না। ৯টা-৫টার চাকুরেদের দিনের আলোয় অফিস ছাড়া হয় না। বাড়ি ফেরার আগে সামনের টং দোকানটায় দু-চারজন মিলে মিনিট দশেক বসা হয় না। তবে আর যাই হোক ট্রাফিক জ্যামের কোনো হেরফের হয় না।



অনিন্দিতা, উপন্যাস , , No comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*