Archive for Uncategorized

Therap Team Building 2012

কয়েক বছর আগে Therap-এর রিক্রুটমেন্ট এমন ছিলনা। দুই-একজন অথবা তিন-চার জনের গ্রুপ এক সাথে জয়েন করত। এর বেশি না। জয়েন করার পর একটা অফিসিয়াল নিক নেম দেওয়া হত। ওই নামে একটা ইমেইল একাউন্ট হত আর স্পার্কে লগইন করতে হত। সবাই বুঝত নতুন কেউ এসেছে। আমি জয়েন করার মাস খানেক পর স্পার্কে নতুন একজন লগইন করল। মোটামুটি আকর্ষণীয় নাম, Suzan । দুই দিন পর বুঝলাম, It was not she, it was he। খুবই সাধারণ বাংলা নাম সুজন। অফিসে মানুষজন কম ছিল। অল্প কয় দিনেই সবাই সবাইকে চিনে যেত।

Therap-এর এখন আর সেই দিন নাই। অফিস বড় হয়েছে। Developer, tester, dba, design, unix, TNI আর অফিস স্টাফ মিলিয়ে প্রায় ১০০ জন। ছোট্ট এই শহরে ২ কোটি মানুষ থাকে। এই ৩ তালা বাড়িতে ১০০ লোক অফিস করতেই পারে। এক সাথে এত মানুষ জয়েন করে যে, সবাই সবাইকে চিনতে চিনতেই ২/৪ জন চাকরি ছেড়েও দেয়। বড় অফিসের আরেকটা লক্ষণ হল এক নামের কয়েকজন মানুষ থাকা। এখন অফিসে নাহার নামে কাউকে খুঁজলে আপনাকে বলতে হবে কোন নাহার কে খুঁজছেন। নরুন নাহার, লুৎফুন নাহার না রফিকুন নাহার।

আমাদের অফিসে একটা ইয়ারলি ট্যুর হয়। যদিও প্রতি বছর হয় না তারপরও নাম ইয়ারলি ট্যুর। অফিসিয়ালি অবশ্য ট্যুরটাকে বলা হয় টিম বিল্ডিং। সব টিমের সবাই এক সাথে থাকবে, কথাবার্তা বলবে, ঘোরাঘুরি করবে। টিম বিল্ডিং হবে। এই দেশে বেড়ানোর মৌসুম একটাই, শীতকাল। কোন এক অদ্ভুত কারণে আমাদের সব ট্যুরগুলো হয় গরমের দিনে। মার্চ, এপ্রিল বা জুনের কাঠ ফাটা গরমে, ঘামে ভিজে, রোদে পুরে আমরা ঘুরে বেড়াই। শ্রী-মঙ্গল, বান্দরবন, কক্সবাজার, সেন্ট মারটিন।

অফিসে নিজের কাজের গণ্ডীর বাইরে কেউ কাউকে তেমন চেনে না। বিশেষ করে নতুন যারা জয়েন করে। সবার নাম স্পার্কে থাকে। উইকলি মিটিং-এ সবার চেহারা দেখা হয়। কিন্তু কার নাম কোনটা আমি নিজেও জানি না। প্রতি ট্যুরের শেষের রাতে ছোট খাটো একটা কালচারাল ইভেন্ট হয়। খুব আয়োজন করে কিছু না। হুট-হাট করেই সব করা হয়। আগের ট্যুর আর এই ট্যুরের মাঝে যারা জয়েন করেছে। তাদেরকে কিছু একটা করতে বলা হয়। কেউ চাইলে গাইতে পারে, নাচতে পারে, কবিতা আবৃতি পারে অথবা সবার সামনে দাড়িয়ে খানিকক্ষণ কথা বলতে পারে।

এবারকার ইভেন্টটা হুট-হাট করে হয়নি, খানিকটা আয়োজন করেই হয়েছে। নতুন ছেলেমেয়েগুলো সপ্তা খানেকের মধ্যে খুব সুন্দর একটা ইভেন্ট দাড় করিয়ে ফেলেছে। প্রায় ১৮ ঘণ্টার ক্লান্তিকর ভ্রমণ শেষে, রাতে না ঘুমিয়ে হোটেলের ছাদে রিহারসেল করেছে। বাংলাদেশ পাকিস্তানের শ্বাসরুদ্ধর খেলা দেখা বাদ দিয়ে বার কয়েক প্রাকটিস করেছে। পরিশ্রম বৃথা যায়নি। এরচেয়ে ভালো ইভেন্ট যে এর আগে হয়নি, তা নিয়ে কারো কোন দ্বিমত নেই।



Uncategorized , , 2 comments

তেলাওয়াত

৩-৪ ঘন্টার রাস্তা সাড়ে নয় ঘন্টায় পার হলে কেমন লাগে বুঝতেই পারেন। সন্ধা ৬ টায় গাড়ীতে উঠেছি, মদিনা পৌছেছি রাত সাড়ে তিন টায় (পরে জেনেছি ঘটনা ইচ্ছাকৃত। হোটেল খালি না হলে হোটেল ম্যানেজার বাস ড্রাইভারকে ১০০ রিয়াল ঘুষ দিয়ে দেরি করায়)। এখন আর ঘুমানোর মানে হয় না। হোটেলে ব্যাগ রেখে নবীর মসজিদে চলে এলাম। আজান হতেও আরো মিনিট পনেরো বাকি। নামাজ আরো দেরি। এতক্ষণ যেহেতু বসে থাকা সম্ভব না (আমার পিঠের সমস্যার কারণে) তাই দরজার পাশে দেয়াল গেষে দাড়িয়ে আছি। সারা রাত ঘুমাইনি, ঘুমঘুম চোখে এদিক সেদিক দেখছি। এই মসজিদ কাবার মসজিদের মতন না। খুব যত্ন করে বানানো। দেখতে ভালো লাগে।

হঠাৎ দরজার কাছে চোখ পড়ল। দুজন সৌদি আর্মি ( মনে হচ্ছে কমান্ডো হবে) সয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে দ্রুত পায়ে ভেতরে ঢুকছে। তাদের পেছনে আরো ৮-১০ জন। সবাই কালো (ফার্স্ট ব্লাড সৌদি না, আফ্রিকান বংশভুত) একটা লোককে ঘিরে হাটছে। সবাই জুতা না খুলেই ভেতরে ঢুকে পরেছে। হন্হন করে হেটে মসজিদের ভিতর দিয়ে যাওয়া শুরু করেছে। কঠিন সিকিউরিটি প্রোটোকল। নিশ্চই বড় মাপের কেউ হবে। আমিও পিছনে পিছনে হাটা শুরু করলাম। দেখে আসি লোকটা কে? পুরো দলটা মসজিদের অন্য প্রান্ত দিয়ে বেড়িয়ে গিয়ে আবার রাসূল (সা:) রওযার পাশ দিয়ে আবার ভিতরে ঢুকলো। এইবার ঢোকার সময় জুতা খুলেছে। তারপর লোকটা জমজমের পানি খেয়ে নামাজ পরাবার জায়গার দিকে গেল। বুঝলাম ইনিই ইমাম।

মদিনায় আজানের পর নামাজ শুরু হতে খানিকটা সময় নেয়। মক্কার মতন সাথে সাথেই নামাজ শুরু হয় না। ইমাম সাহেব নামাজ শুরু করেছেন। এই লোকের গলায় যাদু আছে। আমি আরবীর কিছুই বুঝিনা কেবল মোহাবিষ্ট হয়ে তার তেলাওয়াতের সূর শুনছি। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম সংগীতকে হার মানাবার ক্ষমতা এই সূরের আছে। তবে এই ইমাম খানিকটা খেয়ালি। এই যাদু তিনি প্রতিদিন দেখান না। ২/৩ দিন পরপর ফজর, মাগরিব কিমবা এশার নামাজে এই সূর শুনতে পাওয়া যায়। যার গলায় এমন যাদু আছে, তাকে এমন প্রটোকল দেয়াই যায়।



Uncategorized , No comments

তুলাধুনা

শীতের বিকেলটা সুবিধার না। কেমন যেন ধরা যায় না। আসতে না আসতেই গায়েব। মনে হয় দুপুর পেরিয়েই সন্ধা নামে। বাচ্চাদের বিকেলে খেলার সময় থাকে না। বাড়ির ছাদে হইরই করে ঘুড়ি উড়ানো হয় না। ৯টা-৫টার চাকুরেদের দিনের আলোয় অফিস ছাড়া হয় না। বাড়ি ফেরার আগে সামনের টং দোকানটায় দু-চারজন মিলে মিনিট দশেক বসা হয় না। তবে আর যাই হোক ট্রাফিক জ্যামের কোনো হেরফের হয় না।

আজ সকাল থেকেই আকাশটা দেখার মত। রাশিরাশি তুলার মতন সাদা মেঘ ঢেকে আছে পুরোটা আকাশ। শীত আসার আগে লেপ-তোষক বানাবার ধুম পরে। ছাদের উপর পাটি বিছিয়ে চলে তুলাধুনা। প্রকৃতিরও বুঝি লেপ-তোষক লাগে। আকাশটা দেখে অন্তত তাই মনে হবে।

Photo Credit: Tawfiq Al Karim



Uncategorized One comment

কৃষ্ণ গহ্বর

১৭৫৭ (পলাশীর যুদ্ধ থেকে) থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত বৃটিশ রাজ আর ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ তক পাকিস্তানি শাসন। কেবল গোলামি করেই চলে গেছে ২১৫ বছর। প্রজন্মের হিসেবে কম করে হলেও নয় কি দশ। এমন দীর্ঘ সময়ে সবই বদলায়। মানুষের আচার আচরণ তো অবশ্যই। এতটা দীর্ঘ সময় সাধারণ মানুষেরা বেচে থেকেছে পোকা মাকড়ের মত। এখানে বেচে থাকাটাই সফলতা। বেচে থাকাটাই যে শেষ কথা। বেচে থাকতে গিয়ে বিসর্জন দিয়েছে স্বাধীন সত্তা। ভালখারাপ বিচার করার ক্ষমতা।

গোলামেরা বেচে থাকে মনিবের মর্জিতে। যেকোনো মূল্যে তুষ্ট করে। এই দেশের সাধারণ মানুষও তাই করেছে। ধুতি পাঞ্জাবি ছেড়ে স্যুট টাই পরেছে। মনিবের ভাষায় কথা বলতে তার চেয়েও ভালো ইংরেজি শিখেছে। ভালো একখানা চাকরির আশায় মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করেছে। স্বাধীনভাবে নিজে কিছু করার চেতনাটাই হারিয়ে গেছে। যাইহোক, তারপর এই স্বাধীনদেশে ৪৩ বছর কেটে গেছে। অনেক অনেক দিন কাটলেও সেই সত্ত্বা ফেরত আসেনি। এখনো সন্তান জন্মালে বাবা-মা সপ্ন দেখেন ছেলে-মেয়ে ডাক্তার হবে, ইঞ্জিনিয়ার হবে। বড় হয়ে চাকরি করবে। মাস গেলে বেতন মিলবে। খুব জানতে ইচ্ছে করে, আপনারা কেউ কি এমন বাবা মা চেনেন যে সপ্ন দেখেছে তার ছেলে-মেয়ে আর কিছুই না হোক অন্তত ভালো মানুষ হবে?

মানুষ যা মন থেকে চায় আর চেষ্টা করে যায় তাই পায়। আমাদের আগের প্রজন্ম যা চেয়েছে তাই পেয়েছে। এই দেশ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারে ভরে গেছে কেবল সত্যিকারের ভালো মানুষের দেখা মেলে না। আমাদের পরিপাটি চেহারার পেছনে যেই মনটা সেখানে কেবলি অন্ধকার। এই অন্ধকার বিশ্ব বৃক্ষাণ্ডের কৃষ্ণ গহ্বরের মতই। যাতে স্বার্থের কাছে সব কিছুই হারিয়ে যায়। বিবেকে বুদ্ধি থেকে শুরু করে মনুষত্ব, ন্যায়-অন্যায় বোধ কিমবা ভালো খারাপের মাঝের বিশাল দূরত্ব। কোনো কিছুরই হদিস থাকে না। পেটুক কৃষ্ণ গহ্বরটা সব খেয়ে নেয়।



Uncategorized , One comment