Tag Archive for ট্রাভেল

ট্রাভেল লগ ৫: ফুকেট ডে ৪ (জেমস বন্ড আইল্যান্ড)

হোটেলের রিসেপসনে বসে আছি। আজকের পিক-আপ ৮ টায়। মিনিট দশেক হাতে আছে। এই ফাকে হোটেলের বেশ কিছু ছবি তুললাম। সকালের আলোয় ছবি সবচেয় ভালো আসে। ভালো কিছু শট পেলাম। শেষ হতে হতেই গাড়ি চলে এসেছে। গন্তব্য পিয়ার। আজকে যাচ্ছি ফাং নাগা বে (Phang Nga Bay)। পিয়ার (Pier) থেকে স্পিড বোটে উঠবো। যাবার পথের রাস্তাটা আনারস বাগানের মধ্যে দিয়ে। দু-পাশে সারি সারি আনারস ধরে আছে। পিয়ারে যাবার পর জামায় কালকের মতই স্টিকার লাগিয়ে দিল। টনি (Tony) লিখা গোলাপি রঙের স্টিকার। কারণ আমাদের গাইডের নাম টনি। জিগ্যেস করলো কোন দেশের। বাংলাদেশ শুনে সালাম দিল। পিয়ার বোট লেগুণ মারিনার মত না। লেগুণ থেকেই স্পিড বোটে উঠা যায় না। পিয়ার থেকে স্পীড বোট পর্যন্ত প্রায় আধা মাইল। লম্বা একটা জেটি ধরে হেটে বা ভ্যানে যেতে হয়। একটা ভ্যানে করে কিছু মানুষ গেল। আমরা বাকিরা হেটেই গেলাম। এই স্পিড বোট কালকের মত না। আরো বড় আর একটু পুরনো। কোনও সিট নেই। বোটের চারপাশে বেঞ্চের মত জায়গায় সবাই বসে। প্রথমে যাচ্ছি জেমস বন্ড আইল্যান্ড।



যাবার পথটা কালকের মতই। সাগরের মাঝে খন্ড খন্ড পাহাড়। মাঝে একটা জায়গায় একদল চিল চোখে পড়ল। আমাদের বোট ঘিরে চক্কর খেতে থাকলো। কাছেই হিত ওদের ডেরা। জেমস বন্ডে পৌঁছে বোট থেকে নামলাম। চিকন একটা কনক্রিটের করিডোর দিয়ে হেটে যেতে হবে বাম দিকে। তার পর দিনে মোড় নিয়ে সোজা এগোলেই চোখে পড়ে অন্য রকম দুটো পাহাড়। দুটো পাহাড়ের পাশাপাশি আর পুরোপুরি সমতল দুই পাশ প্রায় ৩০ ডিগ্রী কোনে আর শখানেক ফুট উপরে একে অপরের সাথে হেলান দিয়ে লেগে আছে। প্রাকৃতিক কোনও পাহাড়ের পাশ এতটা সমতল কখনো দেখিনি। জেমস বন্ড দ্বীপটার আসল নাম না, আসল নাম খাও ফিং কান (Khao Phing Kan)। যার মানে হচ্ছে: “Hills leaning against each other”। হয়ত এই আজব পাহাড়ের কারণেই এই নাম। ১৯৭৪ সালে মুক্তি পাওয়া জেমস বন্ডের ম্যান উইথ দ্যা গোল্ডেন গান ছবির শুটিং হয়েছিল এখানে। তারপর থেকে খাও ফিং কান নামটা হারিয়ে যাচ্ছে।

খাও ফিং কান

একটু সামনে এগুতেই পড়ল বিখ্যাত জমস বন্ড রক। প্রায় গোল করে ঘিরে রাখা সাগরের পানির ঠিক কেন্দ্রে বেলন আকৃতির এক খন্ড পাথর। যার নিচের অংশটা সরু হয়ে সাগরে মিশেছে। যদিও পাথরটার আসল নামে কো তাপু (Ko Tapu)। নামটা এখন স্থানীয় লোকজনও ভুলতে বসেছে। এটা দেখার পর যে কারো মনে হবে জেমস ক্যামেরন এভাটার মুভির ফ্লোটিং মাউন্টেনের আইডিয়া এখান থেকেই মেরেছেন। হয়ত আসলেই তাই।

কো তাপু
কো তাপু
কো তাপু

মানুষজন এই রকে হেলান দেবার ভঙ্গিতে দাড়িয়ে জেমস বন্ডের মত দাড়িয়ে ছবি তুলছে। হাতে অদৃশ্য পিস্তল। দেখতে ভালই লাগছে। ডান দিকে বাঁশ আর শনের তৈরি সুভেনির মার্কেট। বাম দিকে সরু পাহাড়ের উঠার রাস্তা। বেশ খানিকটা উঠলে রকটার ভালো কিছু ভিউ পাওয়া যায়। ছবি তোলার জন্য ভালো জায়গা। যদিও পাথরের সিরির মত উপরে উঠার রাস্তাটা মোটেও সুবিধার না। বেশ চাপা, পাশাপাশি দুজন দাঁড়ানো যায় না। তার উপর ঝরনার পানিতে ভেজা। বেশ ভয়ে ভয়ে উঠলাম। না আবার পা পিছলে পরি। এখান থেকে জেমস বন্ড রকের আরেকটা ভিউ পাওয়া যায়। উপরে উঠে বড় একটা পাথরের উপর অল্প একটু দাঁড়ানোর জায়গা। এক দম্পতি এসেছে দুই টিনেজার মেয়েকে নিয়ে। উদ্দেশ্য বিকিনি ফটোসেশান। যথেষ্ট সময় নিয়ে ফটোসেশান হচ্ছে। সিরিতে লম্বা লাইন পড়ে গেছে। এরা সরার নাম করছে না। এত কঠিন পথ পারি দিয়ে এসেছে, এত জলদি সরার কথাও না।

সুভেনির মার্কেট

ছবি তোলা নিয়া মহা ঝামেলার মধ্যে পরেছি। গতকাল মায়া বে তে গিয়ে পড়েছিলাম এক ঝামেলায়। আমার স্ত্রীর নাকি অনেক দিনের শখ বীচের ঠিক মাঝে, সাগরের সামনে দাড়িয়ে আমাদের দুজনের ছবি তোলা। শুধু মাঝে দাঁড়ালেই চলবে না। আমাদের বাম আর ডান দিকের পাহাড়ের মাঝে যেই ফাকা জায়গাটা আকাশ আর সাগর ভাগাভাগি করে নিয়েছে, আমরা দাড়িয়ে থাকব সেখানে। এছাড়া আমাদের মাথার উপর পাহাড়ের চূড়া আর পায়ের নিচে বীচের ধবধবে সাদা বালি থাকলেই চলবে। সমস্যা হচ্ছে ব্যাপারটা ও আমাকে আগে বলেনি তার উপর আমি tripod হোটেলে ফেলে এসেছি। কাউকে দিয়ে বড়জোর ছবি তোলানো যায় কিন্তু এরকম জটিল জ্যামিতিক সমীকরণের ছবি তোলানো প্রায় অসম্ভব। তাও যদি ওরা ভালো ইংরাজি বুঝত। কপাল বেশ ভালো ছিল বলতে হবে। ঢাকা থেকে আসা এক ভদ্রলোককে পেয়ে গিয়েছিলাম। মিনিট খানেক বুঝিয়ে ছবিটা তোলা গেছে। কিন্তু আজকে পরলাম আরো বড় সমস্যায়। আজও ভোরে বের হতে হবে বলে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়েছি। আবার সকালে উঠেই বের হয়ে গেছি। তারাহুরোর মাঝে ক্যামেরা চার্জ দিতে ভুলে গেছি। জেমস বন্ড আইল্যান্ডে পৌঁছানোর পরই ক্যামেরা লো ব্যাটারির সাইন দিচ্ছে। মনে হচ্ছে পুরো দুই সপ্তা ক্লাস বাং মেরে হাজির হবার পর শুনছি আজকে মিড-টার্ম। ফ্যাকাল্টিও সুবিধার না। মেক-আপ নেবে না।

বোটে উঠার সাথে সাথেই চার্জ শেষ। অনেকের সাথেই DSLR আছে। কারো কারো সাথে চার্জারও থাকতে পারে। জিজ্ঞেস করা শুরু করলাম। ভাগ্য এবারও বেশ ভালই বলতে হবে। আমাদের সাথে ক্রোয়েশিয়ার এক দম্পতি যাচ্ছে। ওদের ক্যামেরাও Canon 500D। কি জন্য খুঁজছি শুনল। ভদ্রলোকের কাছে চার্জার না থাকলেও এক্সট্রা ব্যাটারি আছে। ওটাই দিয়ে দিল।

তারপর গেলাম Panyee Island। একটা মুসলিম গ্রাম। সাগরের মাঝে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। একটা বড় পাহাড় ঘিরে গ্রামটা। পুরোটাই কাঠের পাটাতনের উপর। এমন না যে পানির অনেক উপরে। যেকোনো বড় জোয়ারে গ্রামটা নিশ্চিত ভাবেই ডুবে যায়। পুরো গ্রামটা ঘুরে দেখালাম। বড় একটা বস্তি বলা চলে। মানুষজন বেশ গরিব, সেই সাথে ধার্মিকও। বয়স্ক পুরুষেরা সবাই টুপি পড়ে আছে। কোন দোকানে কেউ মদ বা বিয়ার বিক্রি করে না। গ্রামের মাঝে বড় উঠানের পাশে একটা স্কুল। একটা ক্লাসে টিচার নেই। টুরিস্ট দেখে ক্লাসের বাচ্চাগুলো আমাদের দিকে ফিরে, জানালা দিয়ে Michael Jackson এর নাচের ভঙ্গিতে পোজ দিচ্ছে। ইংরেজি এস-এর মত শরীর বাকিয়ে, ডান হাত শরীরের সাথে ৪৫ ডিগ্রি কোনে, বাম হাত প্যান্টের বেল্টে। পিচ্ছিগুলো স্টাইলটা ঠিক মত ধরতে পারেনি। বাম হাত দিয়ে প্যান্টের জিপার খামচে ধরে আছে। মোটামুটি অশ্লীল ভঙ্গি।

Panyee Island
উঠানের পাশে স্কুল

দুপুরে Hong Island। লম্বা সময় এখানে কাটাব। প্রথমে লাঞ্চ, তারপর canoeing। সাগরের মাঝে বড় একটা লঞ্চের ডেকে খাবার ব্যবস্থা। খাবার পর লঞ্চের পেছন থেকে canoeing-এর নৌকায় উঠলাম। প্রতি নৌকায় ২/৩ জন করে। নৌকার মাঝি মজার মানুষ। অল্প বয়সী একটা ছেলে। বয়স বড়জোর ১৫-১৬ হবে। চেহারায় কঠিন জীবিকার ছাপ। ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজিতে অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে। চিকন একটা টানেলের মত প্রবেশ পথ দিয়ে গুহার ভিতর ঢুকলাম। নৌকায় বসেও মাথা নিচু করে ঢুকতে হয়। মাথার উপর এবড়ো থেবড়ো চোখা পাথর। একটু খোঁচা লাগলেই নিশ্চিত রক্তারক্তি। গুহার ভেতরটা অদ্ভুত, অদ্ভুত রকম সুন্দর। পাহাড়ের ভিতর গোলাকার একটা ফাকা জায়গা। মাথার উপর দিয়ে সরাসরি আকাশ দেখা যাচ্ছে না। তবে রোদের আলো ভালই আসছে। আলোর প্রতিফলনে পুরো জায়গাটা আলোকিত হয়ে আছে। মনে হচ্ছে আরেক পৃথিবীতে চলে এসেছি এক টানে। আলোর এমন খেলা এর আগে নিজের চোখে দেখিনি। বর্ণনা করার সামর্থ্য আমার নেই। দুঃখিত।

canoeing

Naka Island যাবার সময় Panak Island পাশ দিয়ে গেলাম। পাহাড়ে অনেক প্রাচীন গুহা। যেমনটা গতকালও দেখেছি। Naka Island-এ ঘণ্টা দুয়েক সময় কাটান। চমৎকার নিলো পানি আরে সাদা বালির সৈকত। তেমন ভিড়ও নেই। সৈকতে গাছের ছায়ায় সারিসারি কাঠের খাট পিছান। তবে একটা ভাড়া করা যাবেনা। জোড়া খাট ঘণ্টা প্রতি ভাড়া। যারা একলা ঘুরবে তাদেরও দুইটা ভাড়া নিতে হবে। একটা থাই নৌকা নোঙ্গর করা। বেশ সুন্দর দেখতে, আগে একটা ছবি তুলে নিলাম। ঘণ্টা খানেক সাতার কাটলাম। তারপর কাঠের খাটের উপর আয়েশ করে শুয়ে থাকা। আহা! কি আনন্দ!

Naka Island
থাই নৌকা

পিয়ারে ফিরতে ১০ মিনিটও লাগলনা। গাড়িতে করে হোটেলে পৌঁছে ছোট একটা ঘুম। রাতে শেষ বারের মত পাতং বীচ দেখতে বের হলাম। চার দিন কেটে গেছে টানের উপর। টেরও পাইনি। খুব বেশি ঘুরাঘুরি করলাম না। ভোর ৪ টায় বের হতে হবে ঠিক ৭ টায় ফ্লাইট। ভোরের অন্ধকারে এয়ারপোর্ট যাবার সময় বুঝলাম, কতটা যত্ন পায় এই বীচ। এই অন্ধকারে ঘষেমেজে রাস্তাঘাট পরিষ্কার করছে মানুষজন। আবছা আলোয় শেষ বারের মত আরেকবার দেখে নিলাম বীচটা। Good bye Patong, Hope to see you again………



Phuket (ফুকেট), Travel log (ট্রাভেল লগ) , , , , , , , , , , , , , , , , , , No comments

ট্রাভেল লগ 8: ফুকেট ডে ৩ (ফি ফি আইল্যান্ড)

অন্ধকার থাকতে থাকতেই উঠে পরেছি। হাতে খুব একটা সময় নেই। খুব জলদি বের হতে হবে। ঠিক ৭:৩০ মিনিটে হোটেল থেকে পিক-আপ। গন্তব্য বোট লেগুণ মারিনা (Boat Lagoon Marina)। ওখান থেকে স্পীড বোটে করে ফি ফি দ্বীপ আর আসে পাশের জায়গা গুলোতে ঘুরা। ফুকেটে কোন কোন দ্বীপে যাবেন আর কি ভাবে যাবেন তা নিয়ে আগে থেকে চিন্তার কিছু নেই। ফুকেটে ডজন ডজন ট্রাভেল কোম্পানি আছে। একেকটা একেক দিকের কয়েকটা করে দ্বীপে ঘুরায়। বীচের পাশের রাস্তা ঘেঁষে দোকান গুলোতে সবার ট্রাভেল আইথিনেরারি (Itinerary) আছে। কোন কোন দ্বীপে যাবেন আর বড় বোটে না স্পিড বোটে করে যাবেন ঠিক করুন। পছন্দ মত একটা বেছে নিন। ফুকেটে কেবল মাত্র খাবার রেস্টুরেন্ট ছাড়া আর সব খানেই দর-দাম ফরজ। সুতরাং নিঃসংকোচে দর-দাম করুন। যেমন আমরা ফি ফি গিয়েছি আন্দামান সীব্রীজের স্পিড বোটে। জন প্রতি ওদের রেট ৩০০০ বাথ। দর-দামের পর আমাদের দুজনের ৬০০০ বাথের জায়গায় লেগেছে ২৮০০ বাথ। ৩ ইঞ্জিনের সম্পূর্ণ নতুন স্পিড বোট। বোটে ওয়াশ রুমও আছে। সকালে মাইক্রো বাসে করে নিয়ে যাবে আর বিকালে পৌঁছে দেবে। সারা দিনে আপনার তেমন খরচ নেই। সকালের নাস্তা থেকে দুপুরের লাঞ্চ সব ওরাই দেবে। এছাড়া সব সময় খাবার জন্য পানি, জুস আর বিয়ার বরফে শীতল পানিতে ডোবানো আছে।

বোট লেগুণ মারিনায় যাবার পর সবার জামার উপরে একটা করে স্টিকার লাগিয়ে দিল। লেগুনে বিভিন্ন ট্যুরের লোকজনকে সহজে খুঁজে বের করা বা আলাদা করার ব্যবস্থা। লেগুনে ফিন (fin http://en.wikipedia.org/wiki/Swimfin) ভাড়া দেওয়া হয়। সারা দিনের জন্য ২০০ বাথ। চাইলে ভাড়া করতে পারেন তবে তেমন একটা কাজে লাগে না। ঠিক ৯ টায় স্পিড বোট ছাড়ল। সাগরে আগে কখনো স্পিড বোটে উঠিনি। চমৎকার অভিজ্ঞতা। হাই স্পিডে ঢেউয়ের উপর দিয়ে চলার কারণে বোট পানির উপরে থাকার চেয়ে হাওয়াতেই বেশি ভাসছে। ৫-৬ ফুট লাফিয়ে পার হয়ে পানিতে বাড়ি খেয়ে আবার উঠে যাচ্ছে। এই অবস্থায় বসে থাকলে পিঠের ১২ বাজবে। আমি বোটের সামনে গিয়ে দাড়িয়ে রইলাম। একেকটা বাক নেবার সময় বোট প্রায় ৪৫ ডিগ্রি বেকে যাচ্ছে।

এখন ফুকেটে পিক সিজন। সব জায়গাতেই টুরিস্ট গিজ গিজ করছে। প্রথমে যাবার কথা ছিল ফি ফি কিন্তু গেলাম খাই নাই দ্বীপে (Khai Nai Island)। তখন নাকি ফি ফি তে বোট রাখার জায়গা নাই। পরিষ্কার টলটলে নীল পানির ছোট্ট একটা দ্বীপ। চওড়ায় বড়জোর ৪০ ফুট আর লম্বায় আধ মাইল হবে। এত নীল পানি এর আগে শুধু সিনেমাতেই দেখেছি। কিছুক্ষণ কেটে গেল কেবল বুঝতে বুঝতেই যে, স্বপ্ন দেখছি না। ফিন আর ডাইভিং মাস্ক পড়ে পানিতে নামলাম। হাঁটু পানিতেই নানান রঙের হাজার হাজার মাছ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এক ভদ্রলোক একটু কলা পানিতে ছুড়ে মারল, মুহূর্তেই কয়েকশ মাছ কলার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। দুই সেকেন্ডেই কলার টুকরা গায়েব। ফারিয়া ওখানেই থাকলো। আমি একটু সামনের দিকে সাতার দিলাম। একটু গভীর পানিতে অসাধারণ দৃশ্য। বড় বড় পাথরের ফাকে ফাকে মাছ ঘুরে বেড়াচ্ছে। সূর্যের আলোয় সব পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। আহা! কেন যে পানিতে ছবি তোলার ক্যামেরা কিনলাম না।







ঘণ্টা খানেক পর রওনা দিলাম। সাগরের মাঝে মাঝে হঠাৎ জেগে উঠা পাথরের পাহাড়ের মাঝে দিয়ে বোট চলছে। দেখে মনে হয় কেউ যেন বিশাল সাগরের মাঝে এলো মেলো করে বেলন আকৃতির পাহাড় গুলোকে বসিয়ে দিয়েছে। নীল পানিতে নানা রঙের পাথরের পাহাড়ের উপর ঘন সবুজ ঘন বন। মাংকি বীচ গিয়ে খুব একটা ভালো লাগলো না। ছোট্ট একটু জায়গায় ৭-৮ টা বোট ভিড়েছে। বাকি গুলো দুরে দাড়িয়ে আছে। বীচ খালি হলে আসবে। মানুষ দাঁড়াবার জায়গা নেই। পালা করে সবাই আসছে, বানরকে বাদাম খাওয়াচ্ছে আর ছবি তুলছে। এত মানুষ মনে হয় মাংকি বীচের বানরও এর আগে দেখেনি। অতি বিস্ময়ে একটা বানর পানিতেই পড়ে গেল। বানর মনে হয় সাতার জানে না। অনেক কষ্টে কোন রকমে একটা পাথরের উপর উঠে বসলো। এই মুহূর্তে গাছে উঠার সামর্থ্য এর নাই।






ফি ফি আইল্যান্ড আসলে একক কোন দ্বীপ না। পাশাপাশি থাকা ফি ফি ডন আর ফি ফি লে নিয়ে ফি ফি আইল্যান্ড। মানকি বীচ আর টনসাই বে ফি ফি ডনের অংশ। অন্য দিকে ভাইকিং কেভ, পিলেহ লেগুণ, লো সামাহ বে আর মায়া বে ফি ফি লের অংশ। মানকি বীচ থেকে ফি ফি ডনের বীচ সাইডে গেলাম বুফে লাঞ্চে। সব টুরের লোকজনকে এখানেই নিয়ে আসা হয় খাবার জন্য। খাওয়া ভালো, বেশ ভালো। সবজি আর মাছ দিয়ে খাবার পর জানলাম মাংস আসলে হালালই ছিল খেতে পারতাম। রেস্টুরেন্টের সবাই মুসলিম। প্রতিটা মেয়ে হিজাব পড়ে আছে। প্রায় প্রতিটা ছেলেই দাড়ি রেখেছে। পরে জেনেছি ফুকেটের এই সব দ্বীপ গুলোর বেশির ভাগ মানুষই মুসলিম। টুর অপারেটরদের বেশির ভাগই তাই। লাঞ্চের পর ছবি তোলার কিছু ব্যর্থ চেষ্টা করলাম। দুপুরের কড়া রোদে কোন ছবিই ভালো আসছে না। ফি ফি ডন দ্বীপটা বেশ সুন্দর। ইংরেজি ইউ আকৃতির তীর ঘেঁষে লম্বা নারকেল গাছের সারি। একপাশে পাহাড় আর তিন পাশে সাগর। ইউ আকৃতির দুটো বীচ (http://www.kohphiphi-don.com/) সাগরকে ভাগ করে দিয়েছে। সুনামিতে দ্বীপটার আকৃতি বেশ বদলে গেছে। সকাল বেলা থাকতে পারলে সবচে সুন্দর ভিউ পাওয়া যেত। দ্বীপে হোটেলও আছে, চাইলে থাকাও যায়।



আমাদের বোটের গাইড একেক স্পটে যাবার পর স্পটের বর্ণনা দিচ্ছে। সেই সাথে কতক্ষণ থাকব তাও বলছে। যদিও তার কথার খুব অল্পই বুঝা যাচ্ছে। একে তো উচ্চারণ ঠিক নাই তার উপর বলছে বেশ দ্রুত। যেমন ফি ফি আইল্যান্ডকে উচ্চারণ করছে পি পি আইলে। ব্যাপারটা মনে হয় সে নিজেও ভালো জানে। বলার সময় একটা বোর্ড ধরে রাখে। যাতে স্পটের নাম আর কতক্ষণ থাকব সেই সময় লিখা থাকে। আমাদের সাথে যারা যাচ্ছে বেশির ভাগই ইউরোপিয়ান। এরাও খুব একটা ইংরেজি জানে না। এদের কিছুই যায় আসে না। নিজেদের ভাষায় টেনে টেনে কথা বলছে।

এরপর গেলাম মায়া বে। লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও দ্যা বীচ মুভি দিয়ে এটাকে বিখ্যাত বানিয়ে ফেলেছে। সেই সাথে ১২ টাও বাজিয়েছে। এত টুরিস্টের চাপ নেবার ক্ষমতা এই বীচের নেই। ইংরেজি আর আকৃতির পাহাড়ের মাঝে ইউ আকৃতির এই বীচটা এখন ফি ফির অন্যতম আকর্ষণ। একদিকে বীচ, বীচের ২ দিকে পাহাড় আর অন্যদিক ফানেলের মত খোলা। বীচটা খুব একটা চওড়া না। পেছনটা পাহাড়ে ঘেরা। পুরোটা দেখতে হেটে বেড়াতে লাগলাম। বা দিকে কাঠের নৌকা রাখা। ডান দিকে স্পিড বোটগুলো। মাঝে সাতার কাটার জন্য ফাকা জায়গা দড়ি দিয়ে ঘিরে রাখা। মানুষজন কেউ সাতার কাটছে। কেউ পাহাড়ের ছায়াতে শুয়ে আছে। আর কেউ কেউ দলবেঁধে ছবি তুলছে। হাতে SLR থাকায় কেউ কেউ ভুলে ফটোগ্রাফার ভাবছে। ক্যামেরা দিচ্ছে ছবি তুলে দিতে। কয়েক তরুণী দলবেঁধে ঘুরতে এসেছে। ক্যামেরা দিল ছবি তুলে দিতে। তোলার পর ভাঙ্গা ইংরেজিতে বলল “Can you take a woo”? আমি কিছুই বুঝলাম না। একজন আকার ইংগিতে পুরোটা বুঝালো। সবাই একসাথে হাত পা ছুড়ে লাফিয়ে উঠবে, সেই ছবি তুলে দিতে হবে। SLR এ স্পোর্ট মুডে সেকেন্ডে ৫-৬ ফ্রেমে সহজেই তুলে ফেলা যায়। কিন্তু Point and shoot ক্যামেরায় ব্যাপারটা বেশ কঠিন। বেশ কয়েক বারের চেষ্টায় ঠিকমত তুলতে পারলাম। তবে একটুও বিরক্ত হইনি। বিকিনি পরা একদল সুন্দরী তরুণী যদি আপনি ready বলার পর বারবার একসাথে লাফিয়ে উঠে, বিরক্ত হবার কিছু নেই।







এরপর লো সামাহ বেতে পৌঁছলাম Snorkelling এর জন্য। চারদিকে খাড়া পাহাড় ঘেরা গোলমত জায়গা। মাথার উপর সূর্য এই বিশাল সুরঙ্গে আলো ফেলছে। মনে হচ্ছে সাগরের মাঝে কোনো গোপন আস্তানায় চলে এসেছি। ফিন আর ডাইভিং মাস্ক পড়ে নেমে পরলাম। খাই নাই দ্বীপে মাছগুলো ছিল বীচের ধারে অল্প পানিতে। আর এখানে গভীর পানিতে। তবে পানি পরিষ্কার থাকায় পুরোটাই দেখা যাচ্ছে। প্রায় ২০-৩০ ফুট পানির নিচে বড় বড় পাথরের গুহায় মাছের কলোনি। দলে দলে বের হচ্ছে কিম্বা ঢুকছে। লাইভ ডিসকভারি চ্যানেল। ডাইভিং মাস্ক পরে থাকায় মাথা পানি থেকে না তুলেও শ্বাস নিতে পারছি। সাতার খুব ভালো জানিনা। কোনো রকমে ভেসে থাকতে পারি। যারা খুব ভালো সাঁতারু, এক ডুবে কলোনির সামনে চলে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ সাতার কেটে হাত পা ছড়িয়ে, পানির নিচে মাথা দিয়ে নিশ্চল ভেসে থাকলাম। অদ্ভুত একটা ব্যাপার ঘটল। সম্ভবত এই টুরের সবচেয়ে চমৎকার সেই সাথে বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। মাছের কলোনি থেকে একটা মাছ উঠে এলো। আমার মাস্কের সামনে এসে বাম চোখের বরাবর তাকিয়ে রইলো। কিছুক্ষণ থেকে আবার ডান চোখের সামনে চলে আসলো। কিছুক্ষণ পর ফুড়ুৎ করে আবার কলোনিতে ঢুকে পড়ল। মাছগুলো নিজদের মত ঘোরাঘুরি করছে। এত মানুষ তারপরও কোন আতংক নেই। কাছে আসছে আবার চলে যাচ্ছে। অনেকটা যেন মানুষের সাথে খেলছে। বোঝা যাচ্ছে কঠিন নিয়ম করে এখানে মাছ শিকার বন্ধ করা আছে।



ফেরার পথে পড়ল ভাইকিং কেভ। সাগরের মাঝে পাহাড়ের গুহায় ভাইকিংদের প্রাচীন আস্তানা। এত চেপ্টা গুহায় এরা থাকত কি ভাবে কে জানে। বোট লেগুণ মারিনা থেকে হোটেলে ফিরতে ফিরতে শেষ বিকেল। হালকা একটা ঘুম দিয়ে সন্ধ্যার পর বের হলাম। পাতং বীচের ফুটপাত ঘুরে বেড়ানো অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে প্যান কেইক।



Phuket (ফুকেট), Travel log (ট্রাভেল লগ) , , , , , , , , , , , , , , , , , , , No comments

ট্রাভেল লগ ৩: ফুকেট ডে ২

পাতং বীচের বেঞ্চে বসে সূর্যাস্ত দেখলাম। মনে রাখার মত কিছু মনে হইনি। সন্ধ্যার পর অন্ধকার বীচে বসে থাকার মানে হয়না। ফিরে এসে Coffee World এ কফি খেলাম। স্বাদ পুরোপুরি ঢাকারটার মতই। বীচের পাশের ফুটপাত ঘেঁষে চওড়া one-way রোডটার নাম পাতং রোড। পাতং রোডের ফুটপাত ধরে হাঁটছি। পাতং Night Life সত্যিই দেখার মত। চারপাশে বেশ happening একটা ভাব। কিছু করার না থাকলে চুপচাপ ফুটপাত ধরে হাটতে থাকুন এমনিতেই ভালো লাগবে। রাস্তার ধারের রেস্টুরেন্ট আর বার গুলোতে গান হচ্ছে। কিছু পারফর্মারের গলা সত্যিই চমকে দেবার মত। এক সিঙ্গার Michael Jackson এর Billie Jean গাইছিল। কিছুক্ষণ না শুনলে বোঝাই যায় না যে এটা Michael Jackson না। রেস্টুরেন্টের সামনে বরফে আর একুরিয়ামে মাছ, চিংড়ি আর লবস্টার সাজানো। সাথে price tag দেয়া। আপনি যেটা পছন্দ করবেন তখনই ভেজে অথবা রান্না করে দেবে। রান্না করা চিংড়ি, লবস্টার দেখলে হয়ত খেতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু একুরিয়ামে বিকট দর্শন লবস্টার আর চিংড়ি হেটে যেতে দেখলে খাবার ইচ্ছা এমনিতেই উবে যায়। আমিও আর দাঁড়ালাম না, ছবি তুলে হাটা দিলাম।

পাতং রোড জমে উঠে সন্ধ্যার পর থেকে। রাস্তার পাশে ভ্যান গাড়ির উপর বসে খুচরা খাবার দোকান। জুস, বিয়ার থেকে শুরু করে প্যান কেইক। প্যান কেইকের স্বাদ অবিশ্বাস্য। আমি জীবনে এত মজার প্যান কেইক খাইনি। প্রায় ১০-১৫ রকমের প্যান কেইক বিক্রি হয়। দাম ৩৫-৫০ বাথের মধ্যে। লাইন ধরে দাড়িয়ে অর্ডার দিতে হয়। আপনার সামনেই বানিয়ে দেবে। প্যান কেইক বানানোও দেখার মত। তাওয়াতে ময়দার কাই ঢালবে। হাতুড়ির মত একটা কাঠি দিয়ে তাওয়াতে ছড়িয়ে দেবে। তারপর আপনার চাহিদা মত nautilla, কলা বা অন্য ফলের লেয়ার দেবে। কায়দা মত ভাগ করে বানাবে। তারপর মোগলাইয়ের মত টুকরা করে পেপার প্লেটে তুলে দেবে। টুথপিক দিয়ে তুলে তুলে খাবেন। রাতের হালকা ডিনার হিসাবে এরচেয়ে ভালো কিছু সম্ভব না।

হাটতে হাটতে টুক-টুকের অদ্ভুত শব্দ শুনবেন। টুক-টুক হচ্ছে ওদের লোকাল ট্রান্সপোর্ট। অনেকটা আমাদের Maxi বা Raider এর মত। চলার সময় ভেতরে উচ্চ শব্দে মিউজিক চলে। টুরিস্টদের মনে হয় এই জন্যই ভীষণ পছন্দ। টুক-টুক শব্দ করে চলে বলে নাম টুক-টুক। ৮-১০ জন মিলে কোথাও যাবার জন্য এগুলোর ভাড়া মাত্র ৮০০ বাথ। সবচেয় ভালো হচ্ছে যদি আপনার বাইক চালানোর লাইসেন্স থাকে। ৩০০-৬০০ বাথ দিয়ে সারাদিন ঘুরতে পারবেন। ভাড়া দেবার জন্য পাতং রোডের পাশে বিভিন্ন স্ট্যান্ডে শয়ে শয়ে বাইক রাখা আছে টুরিস্টদের জন্য। আর যে জিনিসটা নিশ্চিত ভাবেই আপনার নজর কাড়বে তা হচ্ছে ওদের kick boxing এর বিজ্ঞাপন। অনেকটা বাংলা সিনেমার বিজ্ঞাপনের মতই উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে চলবে।

যে গলিগুলো সরাসরি পাতং রোডে গিয়ে মিশেছে। সেগুলোও সরগরম। স্ট্রীট মার্কেট, বার, ডিস্কো, স্পা আর ফুট মাসাজ গুলোর বেশির ভাগ এইসব গলিতেই। আমাদের হোটেল থেকে বামে গেলেই বিখ্যাত বাংলা রোড। আরেকটু এগোলে বানানা ডিস্কো। তবে রাত ১০ টার আগে ডিস্কো ওপেন হয়না। শুধু ফুকেট নয়, থাইল্যান্ডে গেলে যে জিনিসটা অবশ্যই মিস করা উচিত না তা হচ্ছে ফুট-মাসাজ। সারাদিন হেটে পায়ে ব্যথা বানাবেন তারপর হোটেলে ফেরার আগে ফুট-মাসাজ। জিনিসটাকে ওরা মোটামুটি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। মাসাজও করবে মোটামুটি কেতাবি কায়দায়। প্রথমে গরম পানিতে পা ধোয়াবে। তারপর মাসাজ ওয়েল মাখবে। আমাদের দেশে হাত-পা টেপার সময় আঙ্গুলের ডগা ব্যবহার হয়। ওদের ধরন আলাদা। হাত মুঠ করে আঙ্গুলের মাঝের হাড় দিয়ে চাপ দেবে। মাঝে মাঝে একটা পেন্সিলের মত কাঠ দিয়ে পায়ের আঙ্গুলের জায়গায় জায়গায় চাপ দেয়া হবে। এক পায়ে মাসাজের সময় আরেক পা গরম তোয়ালে জড়িয়ে রাখবে। ফুট-মাসাজের সময় ঘুমিয়ে পড়ার সম্ভাবনা শতকরা ৮০ ভাগ। এক ঘণ্টার ফুট-মাসাজ ২৫০-৩০০ বাথ। তবে মাসাজের পর পা ব্যথা ভুলে যাবেন।

সকাল সকাল উঠবো দেখে, তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরলাম। তবে ভোরে উঠা হয়নি। উঠতে উঠতে ১০ টা। হালকা নাস্তার পর সোজা বীচে। উদ্দেশ্য প্যারা-সেইলিং। দাম দর করে প্রতিজনের ১০০০ বাথ করে। লাইনে দাড়িয়ে আছি। আমার আগে ফারিয়া যাবে। আমি ভিডিও করব। ওর আগে এক ইন্ডিয়ান মহিলা তৈরি হচ্ছে। সারা গায়ে প্যারাসুটের সাপোর্ট বাধা হচ্ছে। তৈরি হবার পর স্পিড বোট দিয়ে টেনে উপরে তোলা হবে। স্পিড বোট টান দিলে মহিলাকে দৌড়াতে বলা হলো। কিন্তু টান দেবার পর উনি তাল সামলাতে পারলেন না। হোঁচট খেয়ে পানিতে পড়ে গেলেন। ভদ্র মহিলার স্বামী রেগে গিয়ে চিৎকার শুরু করলেন। তিনি প্যারা-সেইলিং করাবেন না। ভদ্রলোক খাটি পাঞ্জাবি। একদম হিন্দি সিনেমার ভাল্লে ভাল্লে টাইপ। মাথায় পাগড়ি পড়েছেন, সেই সাথে টাইট টি-শার্ট। যার কারণে ভুঁড়িটা শরীর থেকে একহাত সামনে দেখা যাচ্ছে। ভুঁড়ি-ওয়ালা মানুষ সাধারণত ঢিলে-ঢালা কাপড় পড়ে যাতে ভুঁড়ি কম বোঝা যায়। এরা ঠিক তার উল্টো। মনে হয় চতুর্দশ শতাব্দীর স্পেনের রাজাদের মত। ভুঁড়ি অভিজাত্যের প্রতীক। যাদের ভুঁড়ি ছিলনা ওরা পেটে বালিশ বেধে দরবারে যেতেন।

আমার আগে ফারিয়া গেল। উঠা থেকে শুরু করে নামা পর্যন্ত পুরোটাই ভিডিও করলাম। টেনে উপরে উঠানোর পর স্পিড বোট থেকে যায়। তারপর আস্তে আস্তে পানিতে পড়ে যায়। পানি থেকে স্পিড বোটে তুলে বীচে নিয়ে আসা হয়। আমি শুরু করার আগে ক্যামেরা ফারিয়ার হাতে দিয়ে গেলাম। ও আমারটাও পুরো ভিডিও করলো। তবে ছোট্ট একটা ভুল করে ফেলল। আমি শুরু করার সময় ও রেকর্ডিং অফ করেছে, আর নেমে আসার পর অন করেছে। এছাড়া বাকি সব ঠিক আছে।

ফারিয়ার প্যারা-সেইলিং

পানিতে সাতার কাটার জন্য দড়ি দিয়ে আলাদা জায়গা করা আছে। বাইক আর স্পিড বোট এর মধ্যে ঢুকে না। একটা জায়গায় প্লাস্টিকের আইস-বার্গ, জাম্পিং টিউব আছে। প্রতি ঘণ্টা মাত্র ৩০০ বাথ। না জেনে উঠে পড়েছিলাম। চোখে পড়া মাত্র কেটে পরেছি। লাঞ্চ করতে আজকে আরেকটা রেস্টুরেন্টে গেলাম। ফারিয়া টমিয়াম সুপ খাবে। জিগ্যেস করলাম এক বাটি কয়জন খায়, বলল ১:১। সার্ভ করার পর দেখি, মাটির বড় মালসায় করে নিয়ে এসেছে। পানি কম কালামারিন, চিংড়ি আর স্কুইডের পরিমাণই বেশি। সুপ খাবার পর দেখি একজন না দুইজনের পেটই পুরো ভোরে গেল।



Phuket (ফুকেট), Travel log (ট্রাভেল লগ) , , , , , , , , , , , , , , , , , No comments