Tag Archive for লবস্টার

ট্রাভেল লগ ৩: ফুকেট ডে ২

পাতং বীচের বেঞ্চে বসে সূর্যাস্ত দেখলাম। মনে রাখার মত কিছু মনে হইনি। সন্ধ্যার পর অন্ধকার বীচে বসে থাকার মানে হয়না। ফিরে এসে Coffee World এ কফি খেলাম। স্বাদ পুরোপুরি ঢাকারটার মতই। বীচের পাশের ফুটপাত ঘেঁষে চওড়া one-way রোডটার নাম পাতং রোড। পাতং রোডের ফুটপাত ধরে হাঁটছি। পাতং Night Life সত্যিই দেখার মত। চারপাশে বেশ happening একটা ভাব। কিছু করার না থাকলে চুপচাপ ফুটপাত ধরে হাটতে থাকুন এমনিতেই ভালো লাগবে। রাস্তার ধারের রেস্টুরেন্ট আর বার গুলোতে গান হচ্ছে। কিছু পারফর্মারের গলা সত্যিই চমকে দেবার মত। এক সিঙ্গার Michael Jackson এর Billie Jean গাইছিল। কিছুক্ষণ না শুনলে বোঝাই যায় না যে এটা Michael Jackson না। রেস্টুরেন্টের সামনে বরফে আর একুরিয়ামে মাছ, চিংড়ি আর লবস্টার সাজানো। সাথে price tag দেয়া। আপনি যেটা পছন্দ করবেন তখনই ভেজে অথবা রান্না করে দেবে। রান্না করা চিংড়ি, লবস্টার দেখলে হয়ত খেতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু একুরিয়ামে বিকট দর্শন লবস্টার আর চিংড়ি হেটে যেতে দেখলে খাবার ইচ্ছা এমনিতেই উবে যায়। আমিও আর দাঁড়ালাম না, ছবি তুলে হাটা দিলাম।

পাতং রোড জমে উঠে সন্ধ্যার পর থেকে। রাস্তার পাশে ভ্যান গাড়ির উপর বসে খুচরা খাবার দোকান। জুস, বিয়ার থেকে শুরু করে প্যান কেইক। প্যান কেইকের স্বাদ অবিশ্বাস্য। আমি জীবনে এত মজার প্যান কেইক খাইনি। প্রায় ১০-১৫ রকমের প্যান কেইক বিক্রি হয়। দাম ৩৫-৫০ বাথের মধ্যে। লাইন ধরে দাড়িয়ে অর্ডার দিতে হয়। আপনার সামনেই বানিয়ে দেবে। প্যান কেইক বানানোও দেখার মত। তাওয়াতে ময়দার কাই ঢালবে। হাতুড়ির মত একটা কাঠি দিয়ে তাওয়াতে ছড়িয়ে দেবে। তারপর আপনার চাহিদা মত nautilla, কলা বা অন্য ফলের লেয়ার দেবে। কায়দা মত ভাগ করে বানাবে। তারপর মোগলাইয়ের মত টুকরা করে পেপার প্লেটে তুলে দেবে। টুথপিক দিয়ে তুলে তুলে খাবেন। রাতের হালকা ডিনার হিসাবে এরচেয়ে ভালো কিছু সম্ভব না।

হাটতে হাটতে টুক-টুকের অদ্ভুত শব্দ শুনবেন। টুক-টুক হচ্ছে ওদের লোকাল ট্রান্সপোর্ট। অনেকটা আমাদের Maxi বা Raider এর মত। চলার সময় ভেতরে উচ্চ শব্দে মিউজিক চলে। টুরিস্টদের মনে হয় এই জন্যই ভীষণ পছন্দ। টুক-টুক শব্দ করে চলে বলে নাম টুক-টুক। ৮-১০ জন মিলে কোথাও যাবার জন্য এগুলোর ভাড়া মাত্র ৮০০ বাথ। সবচেয় ভালো হচ্ছে যদি আপনার বাইক চালানোর লাইসেন্স থাকে। ৩০০-৬০০ বাথ দিয়ে সারাদিন ঘুরতে পারবেন। ভাড়া দেবার জন্য পাতং রোডের পাশে বিভিন্ন স্ট্যান্ডে শয়ে শয়ে বাইক রাখা আছে টুরিস্টদের জন্য। আর যে জিনিসটা নিশ্চিত ভাবেই আপনার নজর কাড়বে তা হচ্ছে ওদের kick boxing এর বিজ্ঞাপন। অনেকটা বাংলা সিনেমার বিজ্ঞাপনের মতই উচ্চস্বরে মাইক বাজিয়ে চলবে।

যে গলিগুলো সরাসরি পাতং রোডে গিয়ে মিশেছে। সেগুলোও সরগরম। স্ট্রীট মার্কেট, বার, ডিস্কো, স্পা আর ফুট মাসাজ গুলোর বেশির ভাগ এইসব গলিতেই। আমাদের হোটেল থেকে বামে গেলেই বিখ্যাত বাংলা রোড। আরেকটু এগোলে বানানা ডিস্কো। তবে রাত ১০ টার আগে ডিস্কো ওপেন হয়না। শুধু ফুকেট নয়, থাইল্যান্ডে গেলে যে জিনিসটা অবশ্যই মিস করা উচিত না তা হচ্ছে ফুট-মাসাজ। সারাদিন হেটে পায়ে ব্যথা বানাবেন তারপর হোটেলে ফেরার আগে ফুট-মাসাজ। জিনিসটাকে ওরা মোটামুটি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। মাসাজও করবে মোটামুটি কেতাবি কায়দায়। প্রথমে গরম পানিতে পা ধোয়াবে। তারপর মাসাজ ওয়েল মাখবে। আমাদের দেশে হাত-পা টেপার সময় আঙ্গুলের ডগা ব্যবহার হয়। ওদের ধরন আলাদা। হাত মুঠ করে আঙ্গুলের মাঝের হাড় দিয়ে চাপ দেবে। মাঝে মাঝে একটা পেন্সিলের মত কাঠ দিয়ে পায়ের আঙ্গুলের জায়গায় জায়গায় চাপ দেয়া হবে। এক পায়ে মাসাজের সময় আরেক পা গরম তোয়ালে জড়িয়ে রাখবে। ফুট-মাসাজের সময় ঘুমিয়ে পড়ার সম্ভাবনা শতকরা ৮০ ভাগ। এক ঘণ্টার ফুট-মাসাজ ২৫০-৩০০ বাথ। তবে মাসাজের পর পা ব্যথা ভুলে যাবেন।

সকাল সকাল উঠবো দেখে, তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পরলাম। তবে ভোরে উঠা হয়নি। উঠতে উঠতে ১০ টা। হালকা নাস্তার পর সোজা বীচে। উদ্দেশ্য প্যারা-সেইলিং। দাম দর করে প্রতিজনের ১০০০ বাথ করে। লাইনে দাড়িয়ে আছি। আমার আগে ফারিয়া যাবে। আমি ভিডিও করব। ওর আগে এক ইন্ডিয়ান মহিলা তৈরি হচ্ছে। সারা গায়ে প্যারাসুটের সাপোর্ট বাধা হচ্ছে। তৈরি হবার পর স্পিড বোট দিয়ে টেনে উপরে তোলা হবে। স্পিড বোট টান দিলে মহিলাকে দৌড়াতে বলা হলো। কিন্তু টান দেবার পর উনি তাল সামলাতে পারলেন না। হোঁচট খেয়ে পানিতে পড়ে গেলেন। ভদ্র মহিলার স্বামী রেগে গিয়ে চিৎকার শুরু করলেন। তিনি প্যারা-সেইলিং করাবেন না। ভদ্রলোক খাটি পাঞ্জাবি। একদম হিন্দি সিনেমার ভাল্লে ভাল্লে টাইপ। মাথায় পাগড়ি পড়েছেন, সেই সাথে টাইট টি-শার্ট। যার কারণে ভুঁড়িটা শরীর থেকে একহাত সামনে দেখা যাচ্ছে। ভুঁড়ি-ওয়ালা মানুষ সাধারণত ঢিলে-ঢালা কাপড় পড়ে যাতে ভুঁড়ি কম বোঝা যায়। এরা ঠিক তার উল্টো। মনে হয় চতুর্দশ শতাব্দীর স্পেনের রাজাদের মত। ভুঁড়ি অভিজাত্যের প্রতীক। যাদের ভুঁড়ি ছিলনা ওরা পেটে বালিশ বেধে দরবারে যেতেন।

আমার আগে ফারিয়া গেল। উঠা থেকে শুরু করে নামা পর্যন্ত পুরোটাই ভিডিও করলাম। টেনে উপরে উঠানোর পর স্পিড বোট থেকে যায়। তারপর আস্তে আস্তে পানিতে পড়ে যায়। পানি থেকে স্পিড বোটে তুলে বীচে নিয়ে আসা হয়। আমি শুরু করার আগে ক্যামেরা ফারিয়ার হাতে দিয়ে গেলাম। ও আমারটাও পুরো ভিডিও করলো। তবে ছোট্ট একটা ভুল করে ফেলল। আমি শুরু করার সময় ও রেকর্ডিং অফ করেছে, আর নেমে আসার পর অন করেছে। এছাড়া বাকি সব ঠিক আছে।

ফারিয়ার প্যারা-সেইলিং

পানিতে সাতার কাটার জন্য দড়ি দিয়ে আলাদা জায়গা করা আছে। বাইক আর স্পিড বোট এর মধ্যে ঢুকে না। একটা জায়গায় প্লাস্টিকের আইস-বার্গ, জাম্পিং টিউব আছে। প্রতি ঘণ্টা মাত্র ৩০০ বাথ। না জেনে উঠে পড়েছিলাম। চোখে পড়া মাত্র কেটে পরেছি। লাঞ্চ করতে আজকে আরেকটা রেস্টুরেন্টে গেলাম। ফারিয়া টমিয়াম সুপ খাবে। জিগ্যেস করলাম এক বাটি কয়জন খায়, বলল ১:১। সার্ভ করার পর দেখি, মাটির বড় মালসায় করে নিয়ে এসেছে। পানি কম কালামারিন, চিংড়ি আর স্কুইডের পরিমাণই বেশি। সুপ খাবার পর দেখি একজন না দুইজনের পেটই পুরো ভোরে গেল।



Phuket (ফুকেট), Travel log (ট্রাভেল লগ) , , , , , , , , , , , , , , , , , No comments